পানির অসাধারণ উপকারিতা!!

0
257

পানি শুধুই কি তৃষ্ণার মেটায়?
পানি দেহের একটি আবশ্যিক প্রাণরক্ষাকারী উপাদান।  আমাদের শরীরে প্রায় দুই তৃতীয়াংশই (৭০%) পানি। তাই সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য পানির কোনরূপ বিকল্প নেই। আমাদের দেহে প্রয়োজনীয় পানির শতকরা ২০ শতাংশ আসে খাবার থেকে, বাকি চাহিদা পূরনের জন্য পানি পান করতে হয়। কিন্তু পানি ঠিক কতটুকু পান করা উচিত অথবা কখন পান করা উচিত এ বিষয়ে অনেক কেই দ্বিধান্বিত হতে দেখা যায়।

কেন পানি পান করবোঃ
*পানি আমাদের দেহের ইলেক্ট্রোলাইটিক ভারসাম্য বজায় রেখে দেহের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে।
*মানুষের মস্তিষ্কের ৯৫ শতাংশই পানি এবং আমারা যে পানি পান করি তার প্রায় ৪০ শতাংশ ই মস্তিষ্ক ব্যবহার করে।
*পানি দেহের হজম প্রক্রিয়া দ্রুত করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।
* পানি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে।
*পরিমিত পরিমানে পানি পান করলে ত্বক সুন্দর থাকে।

কম পানি পান করলে যে সমস্যাগুলো হতে পারেঃ
কম পানি পানে ডিহাইড্রেশন হতে পারে। শরীরে পানির পরিমান দুই শতাংশ কমে গেলে ডিহাইড্রেশন হতে পারে।

— মাথা ঝিম ঝিম করে এবং ভোঁতা ব্যাথা হতে পারে।
— জয়েন্টে ব্যাথা এবং পেশিতে টান পরতে পারে।
— হার্ট বিট বেড়ে যেতে পারে।
— দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, অবসাদগ্রস্থ  হতে পারে।
— মুখের ভিতরে লালা শুকিয়ে যেতে পারে,মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে।
–বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য সহ পাকস্থলির অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।


–স্বল্প সময়ের জন্য স্মৃতিশক্তি লোপ,সহজ অংক কোষতে সমস্যা,
–ছোট লেখা দেখতে সমস্যা,
–মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রিন ঝাপসা দেখা ডিহাইড্রেশন এর লক্ষণ।

অতিরিক্ত চা কফি পান শরীরে পানির চাহিদা বাড়িয়ে দেয় যা ডিহাইড্রেশন এর কারণ। আবার অতিমাত্রায় চিনি গ্রহনের কারনেও ডিহাইড্রেশন হতে পারে।

চাহিদার তুলনায় কম পানি পান করলে নানান ক্ষতি হতে পারে। যেমন কিডনিজনিত জটিলতা, ডিহাইড্রেশন, উচ্চরক্ত চাপ, ওজন বৃদ্ধি, কোষ্টকাঠিন্য,প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া, শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা ইত্যাদি দেখা যায়।

আবার প্রয়োজন এর অধিক পানি গ্রহণ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যার জন্ম দেয়। অতিরিক্ত পানি পানের কারনে কিডনি, লিভার ও হার্ট এর ক্ষতি হতে পারে। তাই নিয়ম মেনে পানি পান করা উচিত।

কতটুকু পানি পান করবোঃ
একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষের সাধারণত দিনে অন্ততপক্ষে ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত। তবে এটি অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থা এবং তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। যারা শারীরিক শ্রম বেশী করেন তাদের বেশী পানি পান করতে হবে। এছাড়া যারা বেশী ঘামেন তাদের বেশী পানি পান করা উচিত। তবে কিডনি রোগীদের অনেকের শরীরে যদি গায়ে পানি আসে(ইডিমা)হলে, ডাক্তারের পরামর্শে পানি মেপে পান করতে হয়।

কখন পানি পান করতে হবেঃ
এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে দেখা যায় অনেক কেই। অনেকেই বলে থাকেন খালি পেটে পানি পান করা উচিত। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।তবে যখন তৃষ্ণা পাবে তখন পানি পান করে পানির ঘাটতি পূরন করে ফেলা উচিত। শরীরের আদ্রতা ঠিক রাখার জন্য ঘন ঘন পানি পান করা উচিত। ফলের জুস বা লেবু পানি পান করা যেতে পারে।

ফল ও সবজিতে প্রচুর পরিমান পানি থাকে। দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় ফল ও সবজির অন্তর্ভুক্তি আমাদের দেহের পানির চাহিদা পূরনে সাহায্য করতে পারে। তরমুজ, স্ট্রবেরী, পেপে, আনারস, কমলালেবু, শসা, পালঙশাক এ প্রচুর পরিমান পানি থাকে। এইসব ফল ও সবজিতে গড়ে ৮০-৯০ ভাগ পানি থাকে । তবে লক্ষ্য রাখতে হবে তৃষ্ণা মিটানোর জন্য পানির বদলে অন্য কোন কোমল পানীয় ব্যবহার যাতে না করা হয়।

পরিমিত পরিমানে পানি পান আমাদের সুস্থ জীবনধারা দিতে পারে যার ফলে বিভিন্ন অসুখ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। সুতরাং দৈনিক চাহিদা অনুযায়ী পানি পানের সু অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত ।

লেখক—
নওরিন জাহান শামসী
খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here