বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া

0
279

অনেকেই বিদেশ থেকে পন্য আমদানি করে ব্যবসা করতে চান কিন্তু সঠিক প্রক্রিয়া জানা না থাকায় আর আমদানি করতে অনিহা প্রকাশ করেন।তাদের জন্য আমরা বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক তথ্য তুলে ধরলাম।

মোতিন একজন তরুন উদ্যোক্তা। সে চাচ্ছে বিদেশ থেকে কিছু পন্য নিয়ে এসে বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি করতে। কিন্তু সে জানেনা কিভাবে পন্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

তো চলুন এখন আমি আপনাদের দেখাবো বিদেশ থেকে পন্য আমদানির পুরো পক্রিয়া।

প্রথমেই বলে নেই যে, পৃথিবীর যেকোন দেশ থেকে পন্য আমদানির পদ্ধতি প্রায় একই রকম । তো ধরে নেই, মোতিন চায়না থেকে কিছু ইলেকট্রনিক পন্য আমদানি করতে চায়। পন্য আমদানির শুরুতে মোতিনকে ‘আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের অধিদপ্তর’ থেকে একটি আমদানি লাইসেন্স করতে হবে।

আমদানি লাইসেন্স করতে আপনাদের যে সমস্ত কাগজপত্র লাগবেঃ-

১.আমদানি কারকের জাতীয় পরিচয় পত্র
২.আমদানি কারকের ৩ কপি ছবি
৩.ট্রেড লাইসেন্স
৪.ব্যাংক সলভেন্সী সার্টিফিকেট
৫.ট্রেড এ্যাসোসিয়েশন সনদ
৬.আমদানি কারকের TIN সার্টিফিকেট

আমদানি লাইসেন্স করার পর এবার আপনি যে দেশ থেকে পন্য আনবেন সেই দেশের একজন উৎপাদনকারী/সরবরাহকারীর সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনেকেই alibaba.com থেকে পন্যের বিক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করে থাকে। এছাড়া আরো অনেক উপায়ে আপনি আপনার পছন্দের বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে বর্তমানে সবাই ইন্টারনেট ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্রেতাবিক্রেতার যোগাযোগ এবং বাকি কাজগুলো করে থাকেন।

তো আপনি যখন আপনার পছন্দের সরবরাহকারীকে পেয়ে যাবেন তখন উক্ত সরবরাহকারীকে আপনার প্রয়োজন অনুসারে পন্যের ধরন, কালার, সংখ্যা ইত্যাদি বিষয়গুলোর তালিকা পাঠাবে্‌ একইসাথে পন্যের মূল্য ঠিক করে নিবেন।

সরবরাহকারীর সাথে সবকিছু ঠিক হয়ে গেলে এবার সরবরাহকারী আপনাকে একটি PI- প্রফরমা ইনভয়েস পাঠাবে। উক্ত প্রফরমা ইনভয়েজে পন্যের সমস্ত তথ্য থাকবে এবং উক্ত ইনভয়েস অবশ্যই বিক্রেতার প্রতিষ্ঠানের প্যাডে হতে হবে এবং বিক্রেতার স্বাক্ষর থাকবে। উক্ত প্রফরমা ইনভয়েস আপনাকে মেইল করলেও হবে।

এবার আপনাকে উক্ত সরবরাহকারীর উদ্দেশ্যে LC ওপেন করতে হবে। LC আপনাকে ব্যাংক থেকে ওপেন করতে হবে। LC করতে হলে আপনাকে প্রফরমা ইনভয়েসের কপি, আমদানি লাইসেন্সের কপি, ট্রেড লাইসেন্সের কপি, পন্যের মূল্য ইত্যাদি নিয়ে একটি ব্যাংক যেতে হবে। সবকিছু ঠিক দেখলে LC ওপেন করে দিবে।

এখানে বলে রাখি সরবরাহকারী যদি আপনার থেকে LC না দাবী করে তবে আপনাকে LC দেওয়া লাগবে না। আসলে LC হল সরবরাহকারী টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তার কপি। অর্থাৎ মনে করুন সরবরাহকারীর পন্য হাতে পেয়ে যদি আপনি টাকা না দেন তবে সরবরাহকারী কি করবে ? আবার আপনিও পন্য না পেয়ে টাকা সরবরাহকারীকে দিবেন না। তাই ব্যাংক দুই পক্ষের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় কাজ করে।

যাইহোক, LC এর কাগজ এবার আপনাকে সরবরাহকারীর নিকট পাঠাতে হবে। সরবরাহকারী LCর কাগজ পাওয়ার পরে আপনার পন্য উৎপাদন এবং সরবারহের ব্যবস্থা করবে। এবার সরবরাহকারী আপনার চাহিদা মত পন্যগুলো জাহাজে/বিমানে লোড করবে। সাধারনত সবাই জাহাজে করে পন্য আনে। জাহাজে পন্য লোড করার পরে জাহাজ কর্তৃপক্ষ সরবরাহকারীকে Bill of Loading প্রদান করবে।

এবার সরবরাহকারী Bill of Loading এর একটি কপি আপানেক মেইল করবে। এতেকরে আপনি নিশ্চিত হলেন যে আপনার পন্য জাহাজে সত্যি উঠানো হয়েছে। উক্ত Bill of Loading এ পন্য কত তারিখে বাংলাদেশে আসতে পারে তার একটি আনুমানিক তারিখ থাকবে।


এবার নির্ধারিত তারিখে আপনি পোর্টে গিয়ে C&F এজেন্টের সহযোগিতায় আপনার পন্য খালাস করিয়ে আনবেন। এখানে আপনি C&F এজেন্টের সহযোগিতা না নিতে চাইলে আপনি একাও কাজগুলো করতে পারেন। তবে কাস্টমসের কাজগুলো কঠিন বিধায় সবাই C&F এজেন্টের সহযোগিতা নিয়ে থাকে, তারা আপনার পক্ষ হয়ে কাস্টমসের সব কাজ করে দিবে।

কাস্টমসের কাজ শেষ করার পর এবার আপনি আপনার পন্য বন্ধর থেকে বের করার অনুমতি পাবেন। এবার আপনি মনের আনন্দে পন্য আপনার হেফাজতে নিয়ে নিবেন।

পোস্টটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার ব্যবসায়ী বন্ধুদের দেখার সুযোগ করেন দিন। ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here