ভারতের ট্যুরিস্ট ও মেডিকেল ভিসার গাইডলাইন ও কিছু প্রশ্ন-উত্তর

0
95

ভারতের CMC হাসপাতালে ডাঃ দেখাতে চাচ্ছেন কিন্তু কিভাবে কি করবেন তা বুঝতে পারছেন না। আজকের পোস্টটি শুধু তাদের জন্য।

ভারতে চিকিৎসা বা ঘোরার জন্য যে কারণেই যেতে চান না কেন আগে আপনাকে পাসপোর্ট করতে হবে। প্রত্যেক জেলাতে এখন পাসপোর্ট অফিস করা হয়েছে তাই সহজে পাসপোর্ট করতে দিন আর যদি নিজ জেলাতে পাসপোর্ট অফিস না থাকে সেক্ষেত্রে আপনার পাশের জেলাতে গিয়ে পাসপোর্ট এর জন্য ফর্ম ফিলাপ করে জমা দিতে পারবেন। আপনার পাসপোর্ট টি হাতে পেতে মিনিমাম ২৫/৩০ দিন সময় লেগে যাবে তবে আগেও পেয়ে যেতে পারেন।

পাসপোর্ট টি যখন করতে দিবেন তখন খেয়াল রাখবেন যে আপনার ন্যাশনাল আইডি কার্ড এ হুবহু যেভাবে আপনার নামের বানান, জন্ম তারিখ ও আইডি নং আছে ঠিক সেভাবেই হতে হবে তা না হলে ভিসা করার সময় ভুল থাকলে ভিসা পাবেন না।

যাইহোক পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আপনি কি ট্যুরিস্ট ভিসা করবেন নাকি মেডিকেল ভিসা করবেন? ট্যুরিস্ট ভিসা দিয়েও আপনি সি এম সি হাসপাতালে ডাঃ দেখাতে ও চেকাপ করাতে পারবেন কিন্তু কোন অপারেশন করতে চাইলে অবশ্যই মেডিকেল ভিসা বাধ্যতামূলক।

ট্যুরিস্ট ভিসা করতে চাইলে যে সব ডকুমেন্টস লাগবে তার লিস্ট নিচে দেওয়া হলোঃ

১। ন্যাশনাল/জন্ম নিবন্ধনের কপি
২। ২ বাই ২ ইঞ্চি হোয়াইট ব্যাকগ্রাউন্ড ছবি
৩। বিদ্যুৎ/পানি/টেলিফোন বিলের রানিং বা আগের মাসের যে কোন একটির কপি
৪। নাগরিক সনদপত্রের কপি ( ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বা শহরের কমিশনারের কাছ থেকে নিতে হবে)
৫। ব্যাংক স্টেটমেন্টের কপি যেখানে মিনিমাম ব্যালান্স ১৫০০০/২০০০০ থাকলেই হবে
৬। পাসপোর্ট এর মেইন পেজের কপি
৭। অনলাইন ভিসা এপ্লিকেশন কপি
৮। ভিসা ফি জমার অনলাইন স্লিপ
৯। মেইন পাসপোর্ট বই

উপরের সমস্ত পেপারস রেডি করে তবেই ভিসা অফিসে গিয়ে জমা দিতে হবে আর সব কিছু সঠিক থাকলে জমা নিবে এবং ৪/৫ দিনের মধ্যে ভিসা পেয়ে যাবেন তবে ঢাকা ও চিটাগাং এর বাইরে যারা আছেন তারা ১০/১২ দিনের মধ্যে ভিসা পেয়ে যাবেন।

আর মেডিকেল ভিসার জন্য উপরের সমস্ত পেপারস লাগবে শুধু নাগরিক সনদপত্রের কপি দেওয়া লাগবে না। আর নতুন করে যোগ হবে শুধু বাংলাদেশি ডাক্তারদের ২/৩ টা প্রেশক্রিপশন ও ভারতের যে কোন হাসপাতালের ডাক্তারের আ্যপয়েন্টমেন্ট লেটার অথবা ভিসা ইনভাইটেশন লেটার দিতে হবে।

আমার তো নিজের ব্যাংক একাউন্ট নেই তাহলে কিভাবে করবো?

উত্তরঃ আপনি ব্যাংক একাউন্টের পরিবর্তে ডলার ইন্ডোরসমেন্ট করতে পারবেন যে কোন ব্যাংকে গিয়ে মানে যে সব ব্যাংকের শাখা ডলার কেনাবেচা করে থাকে।

কিন্তু ডলার ইন্ডোরসমেন্ট কিভাবে করবো আর কোথায় যাবো?

উত্তরঃ আপনি প্রথমে আপনার পাসপোর্ট বইটি হাতে নিন তারপর ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিন তারপর ন্যাশনাল আইডি কার্ডটিও হাতে নিন এবং ১৫০ ডলার সমমান টাকা পকেটে নিন তারপর বাসা থেকে বের হয়ে ইসলামি ব্যাংক বা ডাচ বাংলা ব্যাংক বা ইস্টার্ন ব্যাংক শাখাতে চলে যান আর ব্যাংকের অফিসারকে বলুন যে ডলার ইন্ডোরসমেন্ট করবেন তারপর বাকি কাজ ব্যাংক করে দিবে।

কিন্তু আমার এলাকাতে তো ডলার ইন্ডোরসমেন্ট করে না কোন ব্যাংকই সেক্ষেত্রে কি করবো?

উত্তরঃ ডলার ইন্ডোরসমেন্ট সাধারণত বিভাগীয় শহরের ব্যাংকের শাখাতে করে থাকে যেমন খুলনা, ঢাকা, সিলেট, চিটাগং ইত্যাদি শহর। এক্ষেত্রে আপনার নিজেকে একটু খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।

কত টাকা ডলার ইন্ডোরসমেন্ট করতে হবে?

উত্তরঃ মিনিমাম ১৫০ ডলার করতে হবে আর হাইয়েস্ট ভারতের জন্য ৫০০০ ডলার পর্যন্ত করতে পারবেন। আপনার যত ডলার প্রয়োজন সেই অনুযায়ী করতে পারবেন।

আচ্ছা, ডলার কি হাতে হাতে দিবে?

উত্তরঃ জি, আপনি টাকা জমা দেওয়ার পর আপনাকে নগদ ডলার হাতে হাতে দিবে আর ব্যাংক থেকে একটা লিগ্যাল ডকুমেন্টস দিবে। আর এই ডকুমেন্টস ভ্রমণের সময় অবশ্যই সাথে রাখতে হবে এবং ভিসা এপ্লাই এর সময় এই ডকুমেন্টস এর কপিও জমা দিতে হবে যদি ব্যাংক স্টেটমেন্ট না থাকে।

আচ্ছা, কোন এজেন্সিতে গিয়ে করা যাবে না?

উত্তরঃ না, এজেন্সিতে গিয়ে ডলার ইন্ডোরসমেন্ট এখন আর এলাউ করে না ভারতীয় হাইকমিশন কারণ অনেকে ভুয়া ডকুমেন্টস বানিয়ে আনে আর সেটা জমা দিয়ে থাকে তাই ব্যাংক ছাড়া আর কোথাও থেকে আনলে হবেনা।

আচ্ছা, মেডিকেল ভিসার জন্য ভারতের ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কিভাবে পেতে পারি?

উত্তরঃ আপনার বিডি ইন্ডিয়ার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।তারা আপনাদের এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে।যোগাযোগঃ

তাহলে কিভাবে ডাঃ অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাবো?

উত্তরঃ বিডি ইন্ডি আপনাদের ডাঃ আ্যপয়েন্টমেন্ট করে আপনার ইমেইল আইডিতে সেন্ড করে দিবে আর আপনি যে কোন দোকান বা স্থান থেকে প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। এছাড়াও নিজে অনলাইনে চেকিং করতে পারবেন।

আমার তো নিজের নামে বিদ্যুৎ বিলের কপি নেই তাহলে?

উত্তরঃ আপনার দাদার/বাবার/চাচার নামে হলেও কোন সমস্যা নেই এমনকি আপনি যদি ভাড়া বাসাতে থাকেন সেক্ষেত্রেও সমস্যা নেই। আপনি যেখানে এখন আছেন সেখানকার বিদ্যুৎ বিলের কপি দিলেই হবে কারণ ভিসা এপ্লিকেশনে বিদ্যুৎ বিলের ঠিকানাটাই বর্তমান ঠিকানা হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে তাই কার নামে আছে সেটা কোন ফ্যাক্টর না।

আচ্ছা, পানি বা টেলিফোন বিলের কপি দেওয়া যাবে?

জি দিতে পারবেন, কোন সমস্যা হবে না। যে কোন একটি পেপারস দিলেই হবে তবে সেক্ষেত্রে চলতি মাসের বা আগের মাসের দিতে হবে, অন্যথায় ঝামেলায় পড়তে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here