রাজহাঁস লালন পালন

0
223

বর্তমান সময়ে রাজহাঁস এর খামার করা বেশ লাভজনক। কারণ এ খামার করা বেশ সুবিধাজনক। রাজহাঁসের ডিম প্রাকৃতিক ও ইনকিউবেটর দু‘ভাবেই ফুটানো যায়। প্রাকৃতিক উপায়ে মুরগি বা রাজহাঁসী দিয়ে ডিমে তা দেয়ানো যায়। তবে মুরগি দিয়ে ৪ থেকে ৬টি ডিম আর রাজহাঁসী দিয়ে প্রায় ১৫ টি ডিম তা দেয়া যায়।

ডিমে তা দেয়ার জন্য হাঁসের ঘরের এক কোণে শুকনো জায়গায় নরম খড় দিয়ে বাসা তৈরি করে দিতে হয়। আর গরমের সময় ডিমে তা দেয়াকালীন বাচ্চা ফুটার ৭ দিন আগ থেকে দৈনিক কুসুম গরম পানি ডিমের স্প্রে করতে হয়।

সাধারণভাবে প্রচলিত ডিম ফুটানো মেশিনে রাজহাঁসের ডিম ফুটানো কঠিন। তবে বাণিজ্যিকভাবে রাজহাঁসের ডিম ফুটানোর জন্য ফোর্সড এয়ার ইনকিউবেটর ব্যবহৃত হয়। যার তাপমাত্রা প্রায় ৩৭.৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড।

রাজহাঁসের বাচ্চার ব্রুডিং এর জন্য ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত ১ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন। রাজহাঁসের রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধে কেনার আগে রাজহাঁস ভালো করে পরীক্ষা করে নিতে হবে এবং সুনামধারী জায়গা থেকে কিনতে হবে।

নতুন রাজহাঁস উঠানোর আগে তাদের জন্য খাবার ও পানির ব্যবস্থা করতে হবে। খাবার পাত্র ও পানি পরিষ্কার রাখতে হবে। রাজহাঁসের ভালো পরিবেশ বা কোলাহল ও বিরক্তিকর মুক্ত পরিবেশ দিতে হবে। বহিরাগত বা অতিথি পাখিকে রাজহাঁসের সাথে মিশতে দেয়া যাবে না। প্রজননকারী হাঁসকে বাড়ন্ত হাঁস থেকে পৃথক রাখতে হবে।

বিভিন্ন বয়সের হাঁসকে একসাথে না রেখে এক বয়সেরগুলোকে একসাথে রাখতে হবে। নিয়মিত টিকা প্রদান করতে হবে। খামার পরিদর্শনের সময় আগে অল্প বয়সের হাঁস দেখার পর তারপর বেশি বয়সের হাঁস দেখতে হবে। কোন হাঁস অসুস্থ হলে তাকে পৃথক করতে হবে এবং মৃত হাঁসকে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। কখনোই যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না। খামারে দর্শনার্থীদের প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না এবং কোন ব্যক্তি ১৪ দিনের মধ্যে অন্য কোন হাঁসের ফার্মে ঢুকলে তাকে ঢুকতে না দেয়াই ভালো।

হাঁস বিক্রির সময় ক্রেতাকে নোংরা ঝুড়ি নিয়ে খামারে ঢুকতে দেয়া যাবে না। ঘর, খাদ্য পাত্র ও পানির পাত্র এসব পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। জৈব নিরাপত্তা মেনে চলতে হবে। খামারে কোন সমস্যা হলে নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। রাজহাঁস প্রধানত সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও মাংসের জন্য পালন করা হয়।

এদের ঘাড় তুলনামূলকভাবে লম্বা হয়, মুখে লোম থাকে এবং পা জালিকাকার। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই রাজহাঁস পাওয়া যায়। অন্যান্য পাখির তুলনায় রাজহাঁসের আয়ু বেশি। একটি রাজহাস ২০ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। তবে প্রজননের জন্য ৪ থেকে ৫ বছরের বেশি ব্যবহার করা হয় না। রাজহাসের স্মরণশক্তি খুব ভালো এবং অন্যতম চালাক পাখি। যে কোন জিনিস এরা খুব দ্রুত শেখে।

রাজহাঁস ঋতুভিত্তিক ডিম পাড়ে। পুরুষ রাজহাঁস প্রজনন ঋতুতে আক্রমণাত্মক হয় এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে আক্রমণাত্মক প্রবণতাও বাড়ে। রাজহাঁস কামড়াতে ও পাখনা দিয়ে জোরে আঘাত করতে পারে।

একটি পুরুষ ও স্ত্রী রাজহাঁসের মধ্যে সম্পর্কে খুব দৃঢ়। এদের জোড় ভাঙ্গা খুবই কষ্টসাধ্য। বসন্ত ঋতুতে প্রজননের সময় ছাড়া সব সময় রাজহাঁস দলবদ্ধ থাকে। রাজহাঁস খুবই কষ্ট সহিষ্ণু এবং সহজে পালন করা যায়। খুব বেশি পানি না হলেও রাজহাঁস জীবন ধারণ ও প্রজনন সক্ষম। আমাদের দেশে সাধারণত মানুষ সখ করে রাজহাঁস পালন করে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রাজহাঁস পালনের মাধ্যমে দেশের আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here