সুস্বাদু পেঁপের যত পুষ্টিগুণ

0
114

পেঁপে- আমাদের অতি পরিচিত একটি খাবার। পেঁপে শুধু সুস্বাদু নয় বরং এটি বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যেমন ক্যারোটিন, ভিটামিন-সি, ফ্ল্যাভনয়েডস্, বি-ভিটামিন সমূহ, ফোলেট ও প্যান্টোথ্যানিক এসিড এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান যেমন পটাসিয়াম, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, খাদ্যআঁশ ইত্যাদি নানা উপাদান সমৃদ্ধ। কাঁচা পেঁপেতে আছে ৮৮% পানি, ১১% শর্করা এবং নগন্য পরিমান চর্বি ও আমিষ। প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁপে থেকে পাওয়া যায় প্রায় ৪৩ কিলোক্যালরি শক্তি। পেঁপে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের আধার যা আমাদের সুস্থতার জন্য একান্ত জরুরী। এ তো জানলাম পেঁপেতে বিদ্যমান খাদ্য উপাদানসমূহ।

এবার দেখে নেওয়া যাক পেঁপে খাওয়ার কিছু উপকারিতা:

1. অ্যাজমা প্রতিরোধক : গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে যাদের খাদ্যে প্রচুর পরিমানে বিটা-ক্যারোটিন উপস্থিত থাকে তাদের অ্যাজমার ঝুঁকি হ্রাস পায়। আর পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে বিটা-ক্যারোটিন।

2. ক্যান্সার এর ঝুঁকি রোধে : ক্যান্সার ঝুঁকি কমাতে পেঁপের একটি পুষ্টি উপাদান বিটা-ক্যারোটিন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। একটি গবেষণায় দেখা যায়, যাদের খাদ্য-তালিকায় প্রচুর পরিমানে বিটা-ক্যারোটিন থাকে তাদের দেহ প্রস্টেট ক্যান্সার এর বিরূদ্ধে তুলনামূলক বেশি কাজ করে। আবার কোলন ক্যানসার এর ক্ষেত্রেও পেঁপে উপকারি।পেঁপেতে উপস্থিত ফোলেট, ভিটামিন-সি, বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন-ই কোলন ক্যান্সার এর ঝুঁকি কমায়।

3. ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে : একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে যারা টাইপ-১ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস এর শিকার, তাদের খাদ্য-তালিকায় উচ্চ আঁশ জাতীয় খাদ্য রাখা উত্তম। এজাতীয় খাদ্য টাইপ-১ ডায়াবেটিস এর ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে রক্তের শর্করা, লিপিড ও ইনসুলিন এর মাত্রা সঠিক রাখতে সাহায্য করে। এক টুকরো পেঁপে থেকে প্রায় ৩ গ্রাম পরিমান খাদ্যআঁশ পাওয়া যায় অথচ সমপরিমান খাদ্যআঁশ এর জন্য ১৭ গ্রাম শর্করাজাতীয় খাদ্য গ্রহন করতে হয়।

4. হৃদরোগ এর ঝুঁকি কমাতে : পেঁপে হতে প্রাপ্ত খাদ্যআঁশ, পটাসিয়াম এবং ভিটামিনগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। খাদ্যে পটাসিয়াম এর পরিমান বাড়ানোর পাশাপাশি সোডিয়ামের পরিমান কমানো হলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। পেঁপের পটাসিয়াম এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। আবার পেঁপের পুষ্টি উপাদানগুলো কোলেস্টেরল জারিত হতে বাঁধা দেয়। কোলেস্টেরল জারিত হয়ে রক্তনালিকার অভ্যন্তরে প্লাক্ সৃস্টি করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হতে পারে।

5. প্রদাহ ভাল করতে : কোলাইন নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পেঁপেতে পাওয়া যায় যা ঘুমাতে, পেশী সঞ্চালনে, শিক্ষা গ্রহনে এবং স্মরনশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। কোলাইন কোষীয় আবরন এর গঠনে সাহায্য করে, স্নায়বিক উদ্দীপনা আদান-প্রদানে সাহায্য করে এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

6. ত্বকের সুস্থতায় : পেঁপেতে আছে বিটা-ক্যারোটিন যা পরবর্তীতে ভিটামিন-এ তে রূপান্তরিত হয়। ভিটামিন-এ কোষের গঠনে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও ভিটামিন-এ সেবাম তৈরির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা চুলকে ঝলমলে করতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পরিমান ভিটামিন-সি গ্রহন কোলাজেন সংশ্লেষে সাহায্য করে যা ত্বকের কাঠামো গঠন করে। আর পেঁপেতে রয়েছে ভিটামিন-সি।

7. হজমে সাহায্য করে : পেঁপেতে রয়েছে পেপেইন নামক একটি এনজাইম যা হজমে সাহায্য করে। পেঁপেইন মাংসকে নরম করতে সাহায্য করে। পেঁপেতে খাদ্যআঁশ এবং পানির পরিমান অধিক যা কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় করে এবং পরিপাকতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখে।

8. প্রতিরক্ষাতন্ত্রের সুরক্ষা : পেঁপেতে বিদ্যমান বিটা-ক্যারোটিন যা দেহে ভিটামিন-এ তৈরি করে, ভিটামিন-সি সুস্থ ও কর্মক্ষম প্রতিরক্ষাতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন। পেঁপের এ উপাদানগুলো ঠান্ডা, বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাই প্রতিরোধে কাজ করে।

9. কোলেস্টেরল কমায় : পেঁপে প্রচুর খাদ্যআঁশ সমৃদ্ধ হওয়ায় উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রন করে।

10.পোঁড়া স্থান ভাল করতে : পেঁপের এনজাইম পেপেইন ও কাইমোপেপেইন প্রদাহ দূর করতে ও পোঁড়াস্থান এর ক্ষতপূরন করতে সাহায্য করে যা গবেষণায় প্রাপ্ত।

11.পেটের রোগ নিরাময় : পেঁপের পুষ্টি উপাদানগুলো অন্ত্রের ক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে, বদহজম, পেঁটের আলসায ও গ্যাস্ট্রিক নিরাময়ে ভূমিকা রাখে।

১২. চোখের সুরক্ষায় : চোখের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান বিটা-ক্যারোটিন পাওয়া যায় পেঁপে হতে। এই বিটা-ক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

এ তো ছিল পেঁপের জাদুকরী কিছু উপকারিতা। কিন্তু এছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে পেঁপে আমাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারেঃ

 পেঁপে, বিশেষ করে কাঁচা পেঁপে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ক্ষতিকর। কারন পেঁপের কষ গর্ভপাত ঘটাতে পারে, মৃত বাচ্চার জন্ম হতে পারে।
 অত্যাধিক পেঁপে খেলে পেঁপেতে উপস্থিত পেপেইন আমাদের শ্বসনতন্ত্রের কিছু সমস্যা তৈরি করে। যেমন – শ্বাসকষ্ট, নাসিকা পথে বাঁধা সৃস্টি ইত্যাদি।
 আমরা জেনেছি পেঁপেতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়। ভিটামিন-সি আমাদের দেহে জমা থাকে না, মূত্রের সাথে বের হয়ে যায়। অতিরিক্ত ভিটামিন-সি গ্রহন করলে তা কিডনিতে চাপ সৃষ্টি করে। যা কিডনির পাথর তৈরিকে প্রভাবিত করে।
 পেঁপেতে বিদ্যমান খাদ্যআঁশ অতিরিক্ত গ্রহনের ফলে ডায়রিয়া হতে পারে।
 কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে দেখ যায় পেঁপে খেলে ত্বকে এ্যালার্জিজনিত সমস্যা, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। তাদের পেঁপেতে এ্যালার্জি থাকার কারনে এরূপ হতে পারে। তাই তাদের পেঁপে খাওয়া উচিৎ নয়। আর খেলেও তা হতে হবে সীমিত।

যে কোন কিছুরই উপকারি দিক থাকলে কিছু অপকারি দিকও থাকবে। তাই আমরা পেঁপে খাব কিন্তু অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে তা যেন পরিমিত হয়, অতিরিক্ত না হয়। তবেই আমরা সুস্থ থাকতে পারবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here