হিসাব ছাড়া সরাসরি যাদেরকে আল্লাহ জান্নাত দিবেন

664
19647

ক্বিয়ামতের দিন আমরা দাঁড়িয়ে থাকব হাশরের ময়দানে, অপেক্ষা করতে থাকব বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার জন্য। কিন্ত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সেদিন এত ক্ষুদ্ধ হয়ে থাকবেন যে তিনি কোন কথা না বলে, চুপ থাকবেন। অপেক্ষার পালা চলতে থাকে, এবং এভাবে দাঁড়িয়ে থাকাটা অসহনীয় হয়ে পরে। গোটা মানব ও জীন জাতি একত্র হয়ে পৌছয় আদম (আঃ) এর কাছে – তিনি যেন আল্লাহ্‌র কাছে একটু শাফাআত করেন, একটু সুপারিশ করেন, বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্যে।

বিশ্বাস করো জান্নাতে যাওয়া এতো সহজ না। জীবনের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে কঠিন পরিক্ষা এটি।জান্নাতে যাওয়ার জন্য আপনাকে চারটি শর্ত পূরন করতে হবে-
(Al-Asr: 1) وَالْعَصْرِ -কসম যুগের (সময়ের),
(Al-Asr: 2) إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ -নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত;
(Al-Asr: 3) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ -কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের।

সূরা আসর সম্পর্কে আরো জানতে পড়তে পারেন উস্তাদ নুমান আলি খানেরঃ সূরা আল আসর এর মূলভাব শর্ত চারটি-
(১) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُو -যারা বিশ্বাস স্থাপন করে (ঈমান)
(২) وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ -সৎকর্ম করে (সৎ আমল)
(৩) وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ -পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের (দাওয়াহ্)

রাসূল (সাঃ) বলেনঃ আমার কথা (অন্যদের কাছে) পৌছিয়ে দাও, তা যদি একটি আয়াতও হয়। (সহীহ বুখারীঃ ৩২১৫)

(৪) وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ -তাকীদ করে সবরের (নিজে সবর করে এবং অন্যকে সবর করার উৎসাহ দান করে)

এই চারটির একটিও যদি ছুটে যায়, সূরা আসর অনুযায়ি আপনি জান্নাতে যেতে পারবেন না।
কীভাবে আপনি একজনকে দাওয়াত দিবেন এ সম্পর্কে আরো জানতে পড়তে পারেন উস্তাদ নুমান আলি খানেরঃ ডাকুন আপনার রবের পথে, দাওয়াহ না ঝগড়া।

প্রায়ই একটা কথা শুনা যায়, মুসলিম হয়ে যখন জন্ম নিয়েছি একদিন না একদিন জান্নাতে যাবোই!
না কোনোদিন না, কষ্মিন কালেও না, আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত। যারা মুসলিম ঘরে জন্ম নেয়নি তাদের দোষটা কোথায়?? মুসলিম ঘরে জন্ম নিলেই কী মুসলিম হওয়া যায়? আপনার দাদার দাদার দাদা তার দাদা কোন না কোন একসময় আপনার পূর্ব-পুরুষ তারা অমুসলিম-ই ছিল!

তাহলে তারা কিভাবে মুসলিম হলো? আপনার পূর্বপুরুষদের কেউ একজন ছিল, যাকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল, যার সাথে স্বদ্য ব্যবহার করা হয়েছিল, এবং যে আত্নসমার্পন করেছিল আল্লাহর কাছে। এজন্যই আজ আপনি একজন মুসলিম।

আল্লাহর ওয়াদা প্রত্যেক জাতিকেই শতর্ক করা হবে। মৃত্যুর আগে সবাইকে ইসলাম এর নিদর্শন দেখনো হবে (হতে পারে সে হিন্দু, মুসলিম বৌদ্ধ বা খৃষ্টান) যদি তারা আত্নসমার্পন করে আল্লাহর কাছে তবে তারা মুসলিম না হলে তারা মুসলিম হিসেবে গন্য হবে না।
(sura: Israa:15) مَّنِ اهْتَدَىٰ فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ ۖ وَمَن ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا ۚ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ ۗ وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّىٰ نَبْعَثَ رَسُولًا

যে কেউ সৎপথে চলে, তারা নিজের মঙ্গলের জন্যেই সৎ পথে চলে। আর যে পথভ্রষ্ট হয়, তারা নিজের অমঙ্গলের জন্যেই পথ ভ্রষ্ট হয়। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কোন রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত আমি কাউকেই শাস্তি দান করি না।

(Saba: 28) وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِّلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যে সুসংবাদাতা ও সতর্ককারী রূপে পাঠিয়েছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।

(Ar-Ra’d: 7) وَيَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْهِ آيَةٌ مِّن رَّبِّهِ ۗ إِنَّمَا أَنتَ مُنذِرٌ ۖ وَلِكُلِّ قَوْمٍ هَادٍ
কাফেররা বলেঃ তাঁর প্রতি তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হল না কেন? আপনার কাজ তো ভয় প্রদর্শন করাই এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যে পথপ্রদর্শক হয়েছে।

(An-Naml: 93) وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ سَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ فَتَعْرِفُونَهَا ۚ وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
এবং আরও বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। সত্বরই তিনি তাঁর নিদর্শনসমূহ তোমাদেরকে দেখাবেন। তখন তোমরা তা চিনতে পারবে। এবং তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আপনার পালনকর্তা গাফেল নন।

(Al-Anbiyaa: 37) خُلِقَ الْإِنسَانُ مِنْ عَجَلٍ ۚ سَأُرِيكُمْ آيَاتِي فَلَا تَسْتَعْجِلُونِ
সৃষ্টিগত ভাবে মানুষ ত্বরাপ্রবণ, আমি সত্তরই তোমাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব। অতএব আমাকে শীঘ্র করতে বলো না।

(Yunus: 6) إِنَّ فِي اخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَّقُونَ
নিশ্চয়ই রাত-দিনের পরিবর্তনের মাঝে এবং যা কিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান ও যমীনে, সবই হল নিদর্শন সেসব লোকের জন্য যারা ভয় করে।

(Al-Jaathiya: 4) وَفِي خَلْقِكُمْ وَمَا يَبُثُّ مِن دَابَّةٍ آيَاتٌ لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ
আর তোমাদের সৃষ্টিতে এবং চারদিকে ছড়িয়ে রাখা জীব জন্তুর সৃজনের মধ্যেও নিদর্শনাবলী রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য।

(Taa-Haa: 56) وَلَقَدْ أَرَيْنَاهُ آيَاتِنَا كُلَّهَا فَكَذَّبَ وَأَبَىٰ
আমি ফেরাউনকে আমার সব নিদর্শন দেখিয়ে দিয়েছি, অতঃপর সে মিথ্যা আরোপ করেছে এবং অমান্য করেছে।

(Surah Yunus: 90) وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُودُهُ بَغْيًا وَعَدْوًا ۖ حَتَّىٰ إِذَا أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ آمَنتُ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ

আর বনী-ইসরাঈলকে আমি পার করে দিয়েছি নদী। তারপর তাদের পশ্চাদ্ধাবন করেছে ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী, দুরাচার ও বাড়াবাড়ির উদ্দেশে। এমনকি যখন তারা ডুবতে আরম্ভ করল, তখন বলল, এবার বিশ্বাস করে নিচ্ছি যে, কোন মা’বুদ নেই তাঁকে ছাড়া যাঁর উপর ঈমান এনেছে বনী-ইসরাঈলরা। বস্তুতঃ আমিও তাঁরই অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত। (Surah Yunus: 91) آلْآنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ

এখন একথা বলছ! অথচ তুমি ইতিপূর্বে না-ফরমানী করছিলে। এবং পথভ্রষ্টদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলে।

(Surah Yunus: 92) فَالْيَوْمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُونَ لِمَنْ خَلْفَكَ آيَةً ۚ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ عَنْ آيَاتِنَا لَغَافِلُونَ
অতএব আজকের দিনে বাঁচিয়ে দিচ্ছি আমি তোমার দেহকে যাতে তোমার পশ্চাদবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে। আর নিঃসন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না।

## এভাবেই ফেরাউনকে আল্লাহ ইসলামের নিদর্শন দেখিয়েছিলেন, কিন্তু সে মিথ্যা আরোপ করেছে এবং অমান্য করেছে। ফলে যখন তার সামনে মৃত্যু উপস্থিত হলো এবং আল্লাহ যখন ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনীকে সমুদ্রে ডুবিয়ে দিল। তখন সে কী বলল, ‘‘এবার বিশ্বাস করে নিচ্ছি যে, কোন মা’বুদ নেই তাঁকে ছাড়া যাঁর উপর ঈমান এনেছে বনী-ইসরাঈলরা’’ এবং আল্লাহ বললেন, ‘‘এখন একথা বলছ! অথচ তুমি ইতিপূর্বে না-ফরমানী করছিলে। এবং পথভ্রষ্টদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলে।’’ এবং আল্লাহ তার মৃত দেহকে সংরক্ষিত রাখলেন যাতে পশ্চাদবর্তীদের (পরবর্তীদের) জন্য নিদর্শন হতে পারে।

আপনি যদি ইসলামের নির্দশন দেখার পরও আল্লাহর কাছে আত্নসর্মাপন না করেন, তাহলে আল্লাহর আযাব আপনাকেও পাকরাও করবে। (Muhammad: 14) أَفَمَن كَانَ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّهِ كَمَن زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُم
যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত নিদর্শন অনুসরণ করে, সে কি তার সমান, যার কাছে তার মন্দ কর্ম শোভনীয় করা হয়েছে এবং যে তার খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে।

(Al-An’aam: 21) وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِآيَاتِهِ ۗ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ
আর যে, আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথবা তাঁর নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, তার চাইতে বড় জালেম কে? নিশ্চয় জালেমরা সফলকাম হবে না।

(sura Ghaafir:84) فَلَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا قَالُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَحْدَهُ وَكَفَرْنَا بِمَا كُنَّا بِهِ مُشْرِكِينَ
তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন বলল, আমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করলাম এবং যাদেরকে শরীক করতাম, তাদেরকে পরিহার করলাম।

(sura Ghaafir:85) فَلَمْ يَكُ يَنفَعُهُمْ إِيمَانُهُمْ لَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا ۖ سُنَّتَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ فِي عِبَادِهِ ۖ وَخَسِرَ هُنَالِكَ الْكَافِرُونَ
অতঃপর তাদের এ ঈমান তাদের কোন উপকারে আসল না যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করল। আল্লাহর এ নিয়মই পূর্ব থেকে তাঁর বান্দাদের মধ্যে প্রচলিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে কাফেররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যতোই মুসলিম ঘরে জন্ম নিন। কেননা মুসলিম শব্দের অর্থটাই হলো নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর কাছে আত্নসমার্পন করা। আর যদি মুসলিম ঘরেই জন্ম নিয়েছেন তাহলে আরো কতো নিদর্শন এর অপেক্ষায় আছেন?

(Al-Infitaar: 6) يَا أَيُّهَا الْإِنسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ হে মানুষ, কিসে তোমাকে বিভ্রান্ত করল তোমার মহামহিম পালনকর্তা সম্পর্কে?
যে কোন অবিশ্বাসি ব্যাক্তি কি নিম্নের চ্যালেন্জ টি নিতে প্রস্তুুত???
(সূরা বাকারাহ,23) وَإِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَىٰ عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ

‘‘এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।
(সূরা বাকারাহ:24) فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا وَلَن تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ ۖ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ
আর যদি তা না পার-অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য। [সূরা বাকারাহ,23-24]

## ইসলামের প্রথম ইস্তম্ভ কালেমা, আপনি মুখে বলেন কিন্তু অন্তরে বিশ্বাস করেন না, সে অনুযায়ী আমল করেন না, তাহলে আপনার ঈমান আসবে না। কেননা যাহেলী যুগের কাফের, মুসরেকরাও লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর অর্থ জানতো কিন্তু তারা মানতো না।
পরিপূর্ন ঈমান এর শর্ত তিনটি = মুখে বলা x অন্তরে বিশ্বাস করা x আমল করা।

আপনি মুখে বলেন কিন্তু অন্তরে বিশ্বাস করলেন না, সে অনুযায়ী আমল করলেন না তাহলে আপনি সেটাকে মিথ্যা প্রতিপন্য করছেন।
(Al-A’raaf: 40) إِنَّ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّىٰ يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ وَكَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُجْرِمِينَ
নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং এগুলো থেকে অহংকার করেছে, তাদের জন্যে আকাশের দ্বার উম্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। যে পর্যন্ত না সূচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে। আমি এমনিভাবে পাপীদেরকে শাস্তি প্রদান করি।

(sura:muminon:105) أَلَمْ تَكُنْ آيَاتِي تُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ فَكُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ তোমাদের সামনে কি আমার আয়াত সমূহ পঠিত হত না? তোমরা তো সেগুলোকে মিথ্যা বলতে।
আর আল্লাহ তাদের হেদায়েত করবেন না যারা ঈমান আনার পর এবং রসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ার পর এবং তাদের নিকট প্রমাণ এসে যাওয়ার পর কাফের হয়েছে।
(Aali Imraan: 86) كَيْفَ يَهْدِي اللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ وَشَهِدُوا أَنَّ الرَّسُولَ حَقٌّ وَجَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ কেমন করে আল্লাহ এমন জাতিকে হেদায়েত দান করবেন, যারা ঈমান আনার পর এবং রসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ার পর এবং তাদের নিকট প্রমাণ এসে যাওয়ার পর কাফের হয়েছে। আর আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করেন না।
(Aali Imraan: 101) وَكَيْفَ تَكْفُرُونَ وَأَنتُمْ تُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ آيَاتُ اللَّهِ وَفِيكُمْ رَسُولُهُ وَمَن يَعْتَصِم بِاللَّهِ فَقَدْ هُدِيَ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

আর তোমরা কেমন করে কাফের হতে পার, অথচ তোমাদের সামনে পাঠ করা হয় আল্লাহর আয়াত সমূহ এবং তোমাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লাহর রসূল। আর যারা আল্লাহর কথা দৃঢ়ভাবে ধরবে, তারা হেদায়েত প্রাপ্ত হবে সরল পথের।

(Al-An’aam: 88) ذَٰلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُم مَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ
এটি আল্লাহর হেদায়েত। স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা, এপথে চালান। যদি তারা শেরেকী করত, তবে তাদের কাজ কর্ম তাদের জন্যে ব্যর্থ হয়ে যেত।
## যেটা বর্তমান প্রায়ই দেখা যাচ্ছে, কাফের শব্দের অর্থই অবিশ্বাসী! রসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ার পরও আজকে তার হাদীস গুলোকে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে এবং মাযহাব কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। মুসলিম আজ শেরেকে লিপ্ত এজন্য তাদের কাজ কর্ম তাদের জন্যে ব্যর্থ, ফলে মানুষ কোরআন সূন্নাহ থেকে সরে যাচ্ছে, সরে যাচ্ছে আল্লাহ হেদায়েত থেকে। আজ নামধারী মুসলিম রসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ার পরও নামায আদায় করে না।

‘‘আর যাদের কাছে ইসলামের নিদর্শন পৌছাবেনা, যেমন পাগল ইত্যাদি তাদেরকে কিয়ামতের দিনে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে যদি তারা দা্ওয়াত গ্রহন করে তবেই জান্নাতে যাবে না হলে জাহান্নামে যাবে।’’ (Silsilatul Ahadees Sahih, Hadis No:1434) দেখেন একজন পাগলও ছাড় পাবে না।অথচ যারা ইচ্ছামতো লাগামহীন চলাফেরা করে, সালাত/নামাজ পড়েনা তারা মনে করে তারাও মুসলিম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশানের একজন অধ্যাপক কর্তৃক কয়েক বছর পূর্বে এক জরিপে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের মাত্র ২% মানুষ নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, অথচ কাগজে-কলমে বলা হয়ে থাকে শতকরা ৮০% মুসলমানের এই দেশ বাংলাদেশ!
আমরা কী আসলেই মুসলিম নাকী নামধারি বাপ-দাদার পাওয়া মুসলিম।

অথচো রাসূল (সাঃ) বলেনঃ أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِنَّ الْعَهْدَ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلاَةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ ‏”‏ ‏.‏
হুসায়ন ইবনু হুরায়স (রহঃ) বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের এবং কাফিরদের মধ্যে পার্থক্যকারী আমল হল সালাত। যে সালাত ছেড়ে দিল সে কুফরী করল।(সহিহ, ইবনু মাজাহ হাঃ ১০৭৯)
অর্থাৎ আপনি মুসলিম না কাফের এটা কোন আমল দিয়ে নির্ধারন করবেন, ‘‘সালাত/নামাজ’’

নামায না পড়ার অপরাধ কোন মানুষ হত্যা করা, চুরি করা, জিনা করার চাইতেও নিকৃষ্ট। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ নামাযের বিষয়টাকে হালকা করে দেখে। ছেলে/মেয়ে পরীক্ষায় ফেইল করলে তারা কষ্ট পায়, সামান্য অসুস্থ হলে তারা কষ্ট পায়, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে ছেলে-মেয়ে বেনামাযী হয়ে থাকে, কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।
আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
(Al-Muddaththir: 38) كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী;
(Al-Muddaththir: 39) إِلَّا أَصْحَابَ الْيَمِينِ কিন্তু ডানদিকস্থরা,
(Al-Muddaththir: 40) فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُونَ তারা থাকবে জান্নাতে এবং পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

(Al-Muddaththir: 41) عَنِ الْمُجْرِمِينَ অপরাধীদের সম্পর্কে
(Al-Muddaththir: 42) مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ বলবেঃ তোমাদেরকে কিসে জাহান্নামে নীত করেছে?
(Al-Muddaththir: 43) قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ তারা বলবেঃ আমরা নামায পড়তাম না,

## কিয়ামতের সময় যখন হাসরের ময়দানে হিসাব নিকাশের জন্য সবােইকে একত্র করা হবে। যখন সূর্য মাথার এক মাইল উপরে চলে আসবে। রাসূল (সাঃ) বলেনঃ ‘‘ক্বিয়ামতের দিন বান্দার কাজসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম সলাতের হিসাব নেওয়া হবে।’’ (সহীহ তিরমিযীঃ ৪১৩, ইবনু মাযাহঃ ১৪২৫,১৪২৬)। প্রচন্ড রোদে তৃষ্নার্ত-ক্ষুধার্থ অবস্থায় আপনার অবস্থা কেমন হবে? যখন হাসরের মাঠ ৫০ হজার বছর সময় ধরে অতিবাহিত হবে।
(Ash-Shura: 47) اسْتَجِيبُوا لِرَبِّكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَ يَوْمٌ لَّا مَرَدَّ لَهُ مِنَ اللَّهِ مَا لَكُم مِّن مَّلْجَإٍ يَوْمَئِذٍ وَمَا لَكُم مِّن نَّكِيرٍ
আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে অবশ্যম্ভাবী দিবস আসার পূর্বে তোমরা তোমাদের পালনকর্তার আদেশ মান্য কর। সেদিন তোমাদের কোন আশ্রয়স্থল থাকবে না এবং তা নিরোধকারী কেউ থাকবে না।
(Al-Israa: 97) وَمَن يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ ۖ وَمَن يُضْلِلْ فَلَن تَجِدَ لَهُمْ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِهِ ۖ وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَىٰ وُجُوهِهِمْ عُمْيًا وَبُكْمًا وَصُمًّا ۖ مَّأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ ۖ كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنَاهُمْ سَعِيرًا
আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, সেই তো সঠিক পথ প্রাপ্ত এবং যাকে পথ ভ্রষ্ট করেন, তাদের জন্যে আপনি আল্লাহ ছাড়া কোন সাহায্যকারী পাবেন না। আমি কেয়ামতের দিন তাদের সমবেত করব তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায়, অন্ধ অবস্থায়, মুক অবস্থায় এবং বধির অবস্থায়। তাদের আবাসস্থল জাহান্নাম। যখনই নির্বাপিত হওয়ার উপক্রম হবে আমি তখন তাদের জন্যে অগ্নি আরও বৃদ্ধি করে দিব।

## এ সময় সাত শ্রেনীর ব্যক্তি আল্লাহর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবে। যে সাত শ্রেনীর ব্যক্তি আল্লাহর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবে বিস্তারিত পড়তেঃ আল্লাহর (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় গ্রহনকারী সাত শ্রেনীর ব্যক্তি
এবং সেদিন তাদেরকে রাসূল (সাঃ) নিজ হাতে তাদেরকে হাউজে কাউসার দান করবেন। এবং তাদের সব তৃষ্না দূরীভূত হবে।

আল্লাহ বলেনঃ إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। (Al-Kawthar:1)
بَاب فِي الْحَوْضِ مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيَرِدَنَّ عَلَيَّ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِي الْحَوْضَ حَتَّى عَرَفْتُهُمْ اخْتُلِجُوا دُونِي فَأَقُولُ أَصْحَابِي فَيَقُولُ لاَ تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ
আনাস (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমার সামনে আমার উম্মাতের কতক লোক হাউযের কাছে আসবে। তাদেরকে আমি চিনতে পারব। আমার সামনে থেকে তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলব, এরা আমার উম্মাত। তখন আল্লাহ্ বলবেন, আপনি নিশ্চয় অবহিত নন যে, আপনার পরে (এরা দীনের মধ্যে কি পরিবর্তন করেছে) এরা কী সব নতুন নতুন মত ও পথ বের করেছিল। এ শুনে আমি বলব, যারা আমার পরে পরিবর্তন করেছে তার দূর হোক, দূর হোক। [সহীহ বুখারী ৬৫৮২, মুসলিম ৪৩/৯, হাঃ ২৩০৪, আহমাদ ১৩৯৯৩]

যারা সালাত/নামাজ আদায় করে না তারা কিভাবে ভেবেই নেয় যে তারা জাহান্নামে যাবে এবং একদিন না একদিন জান্নাত পাবেই! যখন ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম হিসাব নেওয়া হবে সালাত/নামাজের।যারা এই ছোট্ট ৩০-৫০ বছর এর জীবন আল্লাহর জন্য (যা নিয়ামাত দ্বারা সম্পন্ন) কাটিয়ে জান্নাতে যেতে প্রস্তুত নয়। তারা কীভাবে ৫০ হাজার বছর সময় অতিবাহিত করবে প্রচন্ড রোদে (তৃষ্নার্ত-ক্ষুধার্থ) অবস্থায়।

…‘‘যার পরিমাণ হবে তোমাদের হিসাব অনুযায়ী পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর উক্ত ব্যক্তি হয় জান্নাতের দিকে অথবা জাহান্নামের দিকে নিজের পথ দেখবে ।’’ সূনান আবু দাউদ হাদিস নম্বরঃ ১৬৫৮ (মুসলিম, বুখারী, নাসাঈ)।
হাদিসটি বিস্তারিত পড়তেঃ যার পরিমাণ হবে তোমাদের হিসাব অনুযায়ী পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান।

আর তারপর কত হাজার-কোটি বছর অতিবাহিত হবে জাহান্নামে যদি বিচারের মাঠ-টায় ৫০ হাজার বছর, সময় ধরে অতিবাহিত হয়। আল্লাহ্ই অধিক ভাল জানেন।
আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ- فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ فَلَا أَنسَابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍ وَلَا يَتَسَاءَلُونَ
অতঃপর যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে, সেদিন তাদের পারস্পরিক আত্নীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে না। (sura:muminon: 101)
(sura:Al-hajj: 2) يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّا أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَىٰ وَمَا هُم بِسُكَارَىٰ وَلَٰكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ
যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যধাত্রী তার দুধের শিশুকে বিস্মৃত হবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করবে এবং মানুষকে তুমি দেখবে মাতাল; অথচ তারা মাতাল নয় বস্তুতঃ আল্লাহর আযাব সুকঠিন।
(Al-A’raaf: 8) وَالْوَزْنُ يَوْمَئِذٍ الْحَقُّ ۚ فَمَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
আর সেদিন যথার্থই ওজন হবে। অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই সফলকাম হবে।

(Yaseen: 12) إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي الْمَوْتَىٰ وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُّبِينٍ
আমিই মৃতদেরকে জীবিত করি এবং তাদের কর্ম ও কীর্তিসমূহ লিপিবদ্ধ করি। আমি প্রত্যেক বস্তু স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি।
(sura: Israa:13) وَكُلَّ إِنسَانٍ أَلْزَمْنَاهُ طَائِرَهُ فِي عُنُقِهِ ۖ وَنُخْرِجُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كِتَابًا يَلْقَاهُ مَنشُورًا
আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার গ্রীবলগ্ন করে রেখেছি। কেয়ামতের দিন বের করে দেখাব তাকে একটি কিতাব, যা সে খোলা অবস্থায় পাবে।
(sura: Israa:14) اقْرَأْ كِتَابَكَ كَفَىٰ بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا পাঠ কর তুমি তোমার কিতাব। আজ তোমার হিসাব গ্রহণের জন্যে তুমিই যথেষ্ট।
(Al-Kahf: 49) وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هَٰذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا
আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না।

(sura:muminon: 102) فَمَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম,
(Al-Qaari’a:6) فَأَمَّا مَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ অতএব যার পাল্লা ভারী হবে,
(Al-Qaari’a:7) فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ সে সুখীজীবন যাপন করবে।
(Al-Qaari’a:8) وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ আর যার পাল্লা হালকা হবে,
(Al-Qaari’a: 9) فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ তার ঠিকানা হবে হাবিয়া।
(Al-Qaari’a: 10) وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهْ আপনি জানেন তা কি?
(Al-Qaari’a: 11) نَارٌ حَامِيَةٌ প্রজ্জ্বলিত অগ্নি!

(Al-A’raaf: 9) وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَٰئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُم بِمَا كَانُوا بِآيَاتِنَا يَظْلِمُونَ
এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারাই এমন হবে, যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে। কেননা, তারা আমার আয়াত সমূহ অস্বীকার করতো।

(sura:muminon:103) وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَٰئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ فِي جَهَنَّمَ خَالِدُونَ
এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে, তারা দোযখেই চিরকাল বসবাস করবে।

(sura:muminon:104) تَلْفَحُ وُجُوهَهُمُ النَّارُ وَهُمْ فِيهَا كَالِحُونَ আগুন তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে এবং তারা তাতে বীভৎস আকার ধারন করবে।

(sura:Al-Hijr:43) وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ তাদের সবার নির্ধারিত স্থান হচ্ছে জাহান্নাম।

(sura:Ar-Rahman:43) هَٰذِهِ جَهَنَّمُ الَّتِي يُكَذِّبُ بِهَا الْمُجْرِمُونَ এটাই জাহান্নাম, যাকে অপরাধীরা মিথ্যা বলত।

(sura:Al-Hijr:44) لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِّكُلِّ بَابٍ مِّنْهُمْ جُزْءٌ مَّقْسُومٌ এর সাতটি দরজা আছে। প্রত্যেক দরজার জন্যে এক একটি পৃথক দল আছে।
(sura:Ar-Rahman:44) يَطُوفُونَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ حَمِيمٍ آن তারা জাহান্নামের অগ্নি ও ফুটন্ত পানির মাঝখানে প্রদক্ষিণ করবে।
যাদের পাল্লা হালকাও হবেনা আবার ভারীও হবে না অর্থাৎ সমান হবে তাদের সম্পর্কেও কোরআনে বর্ননা করা হয়েছে।
তারা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না,তাদের মুখটা জাহান্নামের দিকে ঘুরানো থাকবে।
এই ঘটানাটি হাদিসে বিস্তারিত বর্ননা করা আছে, ঘটানাটি বিস্তারিত পড়তে পারেনঃ জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ জান্নাতি
(sura: Al-Araaf:46) وَبَيْنَهُمَا حِجَابٌ ۚ وَعَلَى الْأَعْرَافِ رِجَالٌ يَعْرِفُونَ كُلًّا بِسِيمَاهُمْ ۚ وَنَادَوْا أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَن سَلَامٌ عَلَيْكُمْ ۚ لَمْ يَدْخُلُوهَا وَهُمْ يَطْمَعُونَ
উভয়ের মাঝখানে একটি প্রাচীর থাকবে এবং আরাফের উপরে অনেক লোক থাকবে। তারা প্রত্যেককে তার চিহ্ন দ্বারা চিনে নেবে। তারা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেঃ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তারা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না, কিন্তু প্রবেশ করার ব্যাপারে আগ্রহী হবে।
(sura: Al-Araaf:47) وَإِذَا صُرِفَتْ أَبْصَارُهُمْ تِلْقَاءَ أَصْحَابِ النَّارِ قَالُوا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
যখন তাদের দৃষ্টি দোযখীদের উপর পড়বে, তখন বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এ জালেমদের সাথী করো না।

(sura: Al-Araaf:48) وَنَادَىٰ أَصْحَابُ الْأَعْرَافِ رِجَالًا يَعْرِفُونَهُم بِسِيمَاهُمْ قَالُوا مَا أَغْنَىٰ عَنكُمْ جَمْعُكُمْ وَمَا كُنتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ আরাফবাসীরা যাদেরকে তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনবে, তাদেরকে ডেকে বলবে তোমাদের দলবল ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোন কাজে আসেনি।
(sura: Al-Araaf:49) أَهَٰؤُلَاءِ الَّذِينَ أَقْسَمْتُمْ لَا يَنَالُهُمُ اللَّهُ بِرَحْمَةٍ ۚ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمْ وَلَا أَنتُمْ تَحْزَنُونَ
এরা কি তারাই; যাদের সম্পর্কে তোমরা কসম খেয়ে বলতে যে, আল্লাহ এদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন না। প্রবেশ কর জান্নাতে। তোমাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তোমরা দুঃখিত হবে না।

(sura: Al-Araaf:50) وَنَادَىٰ أَصْحَابُ النَّارِ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَنْ أَفِيضُوا عَلَيْنَا مِنَ الْمَاءِ أَوْ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ ۚ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى الْكَافِرِينَ
দোযখীরা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেঃ আমাদের উপর সামান্য পানি নিক্ষেপ কর অথবা আল্লাহ তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছেন, তা থেকেই কিছু দাও। তারা বলবেঃ আল্লাহ এই উভয় বস্তু কাফেরদের জন্যে নিষিদ্ধ করেছেন।

(sura: Al-Araaf:51) الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَهُمْ لَهْوًا وَلَعِبًا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا ۚ فَالْيَوْمَ نَنسَاهُمْ كَمَا نَسُوا لِقَاءَ يَوْمِهِمْ هَٰذَا وَمَا كَانُوا بِآيَاتِنَا يَجْحَدُونَ
তারা স্বীয় ধর্মকে তামাশা ও খেলা বানিয়ে নিয়েছিল এবং পার্থিব জীবন তাদের কে ধোকায় ফেলে রেখেছিল। অতএব, আমি আজকে তাদেরকে ভুলে যাব; যেমন তারা এ দিনের সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিল এবং যেমন তারা আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করত।
কুরআন ও সুন্নাহ্-র আলোকে জান্নাত জাহান্নাম সম্পর্কে আরো জানতে বিস্তারিত পড়তে পারেনঃ জান্নাত জাহান্নাম পর্বঃ ১ || জান্নাত জাহান্নাম পর্বঃ ২ || জান্নাত জাহান্নাম পর্বঃ ৩
আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করার যোগ্য হবে না!

(Saba: 23) وَلَا تَنفَعُ الشَّفَاعَةُ عِندَهُ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ ۚ حَتَّىٰ إِذَا فُزِّعَ عَن قُلُوبِهِمْ قَالُوا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ ۖ قَالُوا الْحَقَّ ۖ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ যার জন্যে অনুমতি দেয়া হয়, তার জন্যে ব্যতীত আল্লাহর কাছে কারও সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না। যখন তাদের মন থেকে ভয়-ভীতি দূর হয়ে যাবে, তখন তারা পরস্পরে বলবে, তোমাদের পালনকর্তা কি বললেন? তারা বলবে, তিনি সত্য বলেছেন এবং তিনিই সবার উপরে মহান।আল্লাহ আয়াতুল কুরসীতে আরো বলেনঃ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ
…..‘‘কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? (sura:Bakarah-255)

অনেকে মনে করে পীর তার জন্য সুপারিশ করবে, কখোনো না! আপনার পীরের জন্য কে সুপারিশ করবে সেটাই ভাবুন…
সুপারিশ করা হবে সে সব লোকের জন্য যারা আল্লাহর কাছে আত্নসমার্পন করে।যারা একান্তই যথাযথ, প্রকৃত সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। আর রসূল (সাঃ) এর সুপারিশ হবে বড় গুনাহের সাথে জড়িতদের জন্য। কেননা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করবার যোগ্য হবে না। আপনি যদি কোরআন না পড়েন কোরআন কিভাবে আপনার সুপারিশ করবে? আপনি যদি রাসূল (সাঃ) সুন্নত মেনে না চলেন তাহলে রাসূল (সাঃ) আপনাকে কীভাবে চিনবে যে সুপারিশ করবে?
ক্বিয়ামাতের দিন শাফায়াত/সুপারিশ সম্পর্কে হাদিসে বিস্তারিত বর্ননা আছে, ঘটানাটি বিস্তারিত পড়তে পারেনঃ শাফায়াত
নিজের জীবনের চাইতেও বেশী যদি রাসূল (সাঃ) কে ভালোবাসতে না পারেন তাহলে আপনি প্রকৃত মুমিন-ই হতে পারবেন না!
একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের কাকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাওয়া উচিৎ? অবশ্যই আল্লাহকে! কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে আজকাল মুসলিমরা আল্লাহকে ভয় পায়না,বরং দুনিয়াকেই ভয় পায়।

## বোরখা পরলে মানুষ কি বলবে? লম্বা হিজাব পরলে মানুষ কি বলবে? ব্যাক ডেটেড লাগবে না? মেকআপ না করলে মানুষ কি বলবে? চাকরী না করলে মানুষ কিভাবে সম্মান দিবে? এতো বাচ্চা নিলে মানুষ কি বলবে? এতো অল্প বয়সে নামাজ রোজা নিয়ে থাকলে মানুষ বুড়ি বলবেনা? ইত্যাদি ইত্যাদি….
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، وَعَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، قَالُوا حَدَّثَنَا عَوْفٌ، هُوَ ابْنُ أَبِي جَمِيلَةَ عَنْ أَبِي رَجَاءٍ الْعُطَارِدِيِّ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ اطَّلَعْتُ فِي النَّارِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ وَاطَّلَعْتُ فِي الْجَنَّةِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا الْفُقَرَاءَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَهَكَذَا يَقُولُ عَوْفٌ عَنْ أَبِي رَجَاءٍ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ وَيَقُولُ أَيُّوبُ عَنْ أَبِي رَجَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَكِلاَ الإِسْنَادَيْنِ لَيْسَ فِيهِمَا مَقَالٌ وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ أَبُو رَجَاءٍ سَمِعَ مِنْهُمَا جَمِيعًا وَقَدْ رَوَى غَيْرُ عَوْفٍ أَيْضًا هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي رَجَاءٍ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ ‏.‏
আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) … ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাতের দিকে আমি আগ্রহভরে তাকালাম, দুরিদ্র জনদেরকেই আমি এর অধিকাংশ অধিবাসী বলে দেখতে পেলাম এবং জাহান্নামের দিকে তাকালাম। মহিলাগণকেই এর অধিকাংশ অধিকাংশ অধিবাসী বলে দেখতে পেলাম। -বুখারি, মুসলিম। বইঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪২/ জাহান্নামের বিবরণ।, হাদিস নম্বরঃ ২৬০৩

রাসূল (সাঃ) বলেণঃ “ঐ সব নারী জাহান্নামী যারা কাপড় পরেও উলঙ্গ থাকে ”
মিশকাত শরীফ ৩০৫/৩০৬ পৃঃ হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) (মুসলিম শরীফ), মিশকাত শরীফ-৩০৬ পৃ: হযরত আবূ যর রা:,(তিরমিজি শরীফ)।

# না লেগিংস পরার কোন সুযোগ নেই! জর্জেটের পাতলা ওড়না পরার কোন সুযোগ নেই। টাইটফিট ড্রেস পরার কোন সুযোগ নেই। না বিয়ের অনুষ্ঠানে শাড়ী পরে পেট দেখানোর কোন সুযোগ নেই। থ্রি পিচ/কামিজ/ব্লাউজ পরে পিঠ দেখানোর কোন সুযোগ নেই।
(An-Noor: 31) وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ ۖ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَىٰ عَوْرَاتِ النِّسَاءِ ۖ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ ۚ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
‘ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’

(An-Noor: 30) قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ
মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।
(Al-Ahzaab: 32) يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ ۚ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا
‘হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে।’

# উক্ত আয়াত সমূহে পরিস্কার ভাষায় মেয়েদের অন্যের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে, অপ্রয়োজনে কথা বলতে, আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। যা পরিস্কার ভাষায় জানাচ্ছে যে, প্রয়োজন ছাড়া মেয়েদের বন্ধু বানানো, তাদের সাথে কথা বলা জায়েজ নয়। দ্বীনী কোন বিষয় থাকলে কম কথায় শেষ করে নিবে। অযথা কথা বলা হারাম।
দাড়ি রাখলে মানুষ বয়ষ্ক ভাববে না? টাখনুর উপর প্যান্ট পরলে ব্যাক ডেটেড লাগবে, আপনি যদি এখোনো টাখনূর নিচে প্যান্ট পড়েন তাহলে জান্নাত পাবার আশা করিয়েন না। কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ আপনার দিকে তাকাবেন না। যার অন্তরে অনু পরিমান অহংকার আছে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

باب بَيَانِ غِلَظِ تَحْرِيمِ إِسْبَالِ الإِزَارِ وَالْمَنِّ بِالْعَطِيَّةِ وَتَنْفِيقِ السِّلْعَةِ بِالْحَلِفِ وَبَيَانِ الثَّلاَثَةِ الَّذِينَ لاَ يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ وَلاَ يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالُوا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُدْرِكٍ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ خَرَشَةَ بْنِ الْحُرِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ ثَلاَثَةٌ لاَ يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ وَلاَ يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ‏”‏ قَالَ فَقَرَأَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَ مِرَارٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو ذَرٍّ خَابُوا وَخَسِرُوا مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏”‏ الْمُسْبِلُ وَالْمَنَّانُ وَالْمُنَفِّقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ ‏”‏ ‏.‏
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা, মুহাম্মাদ ইবনু মূসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন ব্যাক্তির সাথে কিয়ামত দিবসে আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের প্রতি তাকালেন না, তাদের পবিত্র করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। রাবী বলেন, তিনি এটা তিনবার পাঠ করলেন। আবূ যার (রাঃ) আরয করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এরা কারা? তিনি বললেনঃ এরা হচ্ছে- যে ব্যাক্তি টাখনুর নিচে ঝূলিয়ে কাপড় পরে, সে ব্যাক্তি দান করে খোটা দেয় এবং যে ব্যাক্তি মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে। [হাদিস নম্বরঃ ১৯৫ হাদিসের মানঃ সহিহ]

## আর যার দিকে আল্লাহ তাকাবেন না তাকে ক্ষমা করার প্রশ্নই উঠে না। কেননা আল্লাহর ক্ষমা আর রহমত ছাড়া কেউ তার নিজ আমল নিয়ে জান্নাতে যেতে পারবে না, এমনকি রাসূল (সাঃ) না। আর আপনি কিভাবে যাবেন আল্লাহ যদি আপনার দিকে না ক্ষমার দৃষ্টিতে না তাকায়??

আর এখন আমরা ভাবি বাসায় কুর’আন হাদিসের বই থাকলে আমাকে জঙ্গি ভাববে না তো? ফেসবুকে দ্বীন প্রচার করলে আবার জঙ্গি ভেবে নিয়ে যাবেনা তো?ইসলামিক ক্লাসে গেলে জঙ্গি সংগঠন ভাববে না তো? ইসলামিক বই পড়লে জিহাদি বই ভাববে না তো? ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমরা কি ভুলে গেছি আল্লাহ কুর’আনে বলেছেন যে আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট? আপনি যদি নির্দোষ হয়ে থাকেন আর আপনাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয় তাহলে আপনি ইসলাম নিয়ে পড়েন বা না পড়েন, ইসলামিক স্ট্যাটাস দেন বা না দেন, আপনাকে ফাসানো হবেই। আর যদি আপনি সত্য হয়ে থাকেন, জঙ্গি না হয়ে থাকেন তাহলে আপনার ভয় কি? নিশ্চয় আল্লাহ মজলুমের সাথে আছেনন ইন শা আল্লাহ।

আপনার দাড়ি রাখা,নিকাব বোরখা পরা বা দ্বীন নিয়ে পড়া আসলে কোন ফ্যাক্ট না।আপনি হাজার নামাজী হয়েও আল্লাহকে ভয় না পেলে যেমন কোন লাভ নাই তেমনি আপনি দুনিয়ার হাজার মানুষকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহকে অখুশি করলেও in the end কবরে আপনি একাই যাবেন। মানুষের চোখে স্মার্ট, ইন্টালিজেন্ট সেজে কি লাভ? কবরে আপনি এবং আপনার আমল থাকবে শুধু।সেই আমল যা মানুষকে দেখাতে বা খুশি করতে করা হয়নি।

Know your Lord. নিজের সৃষ্টিকর্তাকে না চিনলেই বরং মানুষ আপনার ব্রেইন ওয়াশ করতে সক্ষম হবে। সেটা জঙ্গি হোক আর মিডিয়া। In the end you will be the only sufferer.
(sura:Bakarah-48) وَاتَّقُوا يَوْمًا لَّا تَجْزِي نَفْسٌ عَن نَّفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ
আর সে দিনের ভয় কর, যখন কেউ কারও সামান্য উপকারে আসবে না এবং তার পক্ষে কোন সুপারিশও কবুল হবে না; কারও কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও নেয়া হবে না এবং তারা কোন রকম সাহায্যও পাবে না।
(Luqman: 33) أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ وَاخْشَوْا يَوْمًا لَّا يَجْزِي وَالِدٌ عَن وَلَدِهِ وَلَا مَوْلُودٌ هُوَ جَازٍ عَن وَالِدِهِ شَيْئًا ۚ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ ۖ فَلَا تَغُرَّنَّكُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَلَا يَغُرَّنَّكُم بِاللَّهِ الْغَرُورُ
হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর এবং ভয় কর এমন এক দিবসকে, যখন পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না এবং পুত্রও তার পিতার কোন উপকার করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতএব, পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় এবং আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারক শয়তানও যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে।
## শান্তি নেই, ঝুম বৃষ্টিতে ‘জিএফের” সঙ্গে একি রিকশাতে পাশাপাশি বসে কাকভেজা হয়ে ভিজাতে, চাঁদনী পসর রাতে হা করে জ্যোৎস্না গিলাতে । এগুলো আপনাকে ক্ষনিকের আনন্দ দিতে পারে কিন্তু শান্তি দিতে পারে না ।

শান্তি নেই, পর্ণ মুভির ফ্যান্টাসি,আইটেম গার্লদের গ্ল্যামারে, এগুলো আপনার অন্তরকে ক্ষত বিক্ষত করে তোলে ।
শান্তি আছে ,আল্লাহর আদেশ মেনে দৃষ্টি হেফাজত করার মধ্যে । শান্তি আছে আপনার রবকে সিজদাহ করার মধ্যে , রবের সামনে রাতে একাকী দাঁড়িয়ে চোখের পানি ফেলাতে । নিজের নফসের অবাধ্যতা করে রবের দাসত্ব করাতে । ভাই এই শান্তি অমূল্য । দুনিয়ার কোন কিছুর বিনিময়ে এই শান্তি পাওয়া যায় না। একবার এই শান্তি পেলে আপনি বারবার চাইবেন এই শান্তি পেতে ।

একবার চেষ্টা করেই দেখুন না । একটা সপ্তাহ আল্লাহর নফরমানী না করে চোখের হেফাজত করে দেখুন না ফলাফল কি হয় । একবার তো চেষ্টা করে দেখবেন ।
. “ …..অবশ্যই আল্লাহর স্মরণে হৃদয় প্রশান্ত হয়।” (sura:Ar-Ra’d: 28)
জান্নাতে যাওয়ার রহস্যটা এখানেই…
(sura: Fajr: 27-30) يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ ,ارْجِعِي إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً ,فَادْخُلِي فِي عِبَادِي ,وَادْخُلِي جَنَّتِي
‘‘হে প্রশান্ত মন, তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।’’
আপনার সামনে যখন ইসলামের আলো হাজির হয়, একে কবুল করুন। যদি কেউ উত্তম উপদেশ দেয়, একে কবুল করুন। যখন কেউ ইসলামের দিকে ডাকে, সেই ডাকে সাড়া দিন। জীবনটা বদলানো যত কঠিনই হোক না কেন, রবের কাছে কোনো এক রাতের আঁধারে চুপিচুপি বলুন, ইয়া রব, হেদায়েত দাও, তোমার পথে চলার শক্তি দাও। জান্নাতের পথে হাঁটার সুযোগ করে দাও।
## আমরা অনেকেই চিন্তা করি নিজের লাইফ ইসলামের দিকে চ্যাঞ্জ করতে হবে। কিন্তু, পরক্ষণেই মাথায় আসে পর্ণ মুভি, মাস্টারবেট, গান, মুভি, আড্ডা, মেয়েবন্ধু ইত্যাদি ছাড়বো কিভাবে।
…অত:পর আগের লাইফেই ফিরে যাই।

না ভাই, আসলে এভাবে চিন্তা করলে আমাদের মতো দুর্বল মানুষের পক্ষে কোন কিছুই ছাড়া পসিবল না। আমাদের যা করতে হবে তা হলো আস্তে আস্তে নেক আমলের দিকে নিজেকে সঁপে দিতে হবে। ৫ ওয়াক্ত নামায ঠিক করতে হবে, ধীরে ইসলাম নিয়ে জানা শুরু করতে হবে, নেককার মানুষদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলতে হবে।

দেখবেন, আস্তে আস্তে আপনি আপনার কৃত পাপকাজ থেকে সরে আসছেন। আরো কিছুদিন অতিক্রান্ত হলে দেখবেন যে গান শোনে অন্তর শান্তি হতো আজ তা শোনে অস্বস্তি লাগছে, আজ নায়িকাদের দিয়ে কমেন্ট করা দূরে থাক, চোখে পড়তেই চোখ সরে যাচ্ছে। হ্যাঁ, এরপরেও আমরা আবার গোনাহে জড়িয়ে পড়তে পারি। সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের যা করতে হবে তা হচ্ছে তাৎক্ষণিক তাওবা। যা ভুল হয়েছে স্বীকার করে আল্লাহর কাছে একাগ্রচিত্তে ক্ষমা প্রার্থনা।

(Aali Imraan:135) وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَىٰ مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ
‘তারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে-শুনে তাই করতে থাকে না।’
## ইনশাআল্লাহ, এভাবেই আমরা আমাদের প্রভুর পথে ফিরে আসতে পারবো আর পৌঁছাতে পারবো কাঙ্ক্ষিত জান্নাতে, যার তলদেশ দিয়ে স্রোতধারা প্রবাহিত হয়। সেখানে না থাকবে কোন কষ্ট আর আক্ষেপ, না থাকবে কোন প্রকার অশান্তি।

মন যখন রবের রহমত পাওয়ার আশায় ব্যাকুল হয়ে যায়, আল্লাহ কি তা ফেলতে পারেন? মহান তাঁর ক্ষমতা, বিশাল তাঁর দয়া। এত দয়া যার, তার কাছে সত্যিই অন্তর থেকে কিছু চাইলে সে ফিরিয়ে দেবে এমন হয় না–নিশ্চয়ই আমাদের রব বান্দাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান।
بَاب ذِكْرِ النَّبِيِّ وَرِوَايَتِهِ عَنْ رَبِّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ حَدَّثَنَا أَبُو زَيْدٍ سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ الْهَرَوِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَرْوِيهِ عَنْ رَبِّهِ قَالَ إِذَا تَقَرَّبَ الْعَبْدُ إِلَيَّ شِبْرًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا وَإِذَا تَقَرَّبَ مِنِّي ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ مِنْهُ بَاعًا وَإِذَا أَتَانِي مَشْيًا أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমার বান্দা যখন আমার দিকে এক বিঘত নিকটবর্তী হয়, আমি তখন তার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হই। আর সে যখন আমার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হয়, আমি তখন তার দিকে দু’হাত নিকটবর্তী হই। সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। [সহীহ বুখারীঃ ৭৫৩৬]

باب فِي فَضْلِ التَّوْبَةِ وَالاِسْتِغْفَارِ وَمَا ذُكِرَ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ لِعِبَادِهِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ الْجَوْهَرِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ فَائِدٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ سَمِعْتُ بَكْرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيَّ، يَقُولُ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ قَالَ اللَّهُ يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ عَلَى مَا كَانَ فِيكَ وَلاَ أُبَالِي يَا ابْنَ آدَمَ لَوْ بَلَغَتْ ذُنُوبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِ ثُمَّ اسْتَغْفَرْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ وَلاَ أُبَالِي يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ لَوْ أَتَيْتَنِي بِقُرَابِ الأَرْضِ خَطَايَا ثُمَّ لَقِيتَنِي لاَ تُشْرِكُ بِي شَيْئًا لأَتَيْتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ‏.‏
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘‘আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে আদম সন্তান! যাবৎ তুমি আমাকে ডাকবে এবং ক্ষমার আশা রাখবে, তাবৎ আমি তোমাকে ক্ষমা করব। তোমার অবস্থা যাই হোক না কেন, আমি কোন পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে থাকে অতঃপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, আমি কোন পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে উপস্থিত হও এবং আমার সাথে কাউকে শরীক না করে থাক, তাহলে আমি পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার নিকট উপস্থিত হব।’’ [তিরমিযী হাসান ৩৫৪০]
(Al-Furqaan: 70) إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَٰئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ ۗ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا “কিন্তু যারা তওবা করে ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহসমূহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তত করে দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু”।
শেষ করছি পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াত দিয়ে…

(Surah:Aal-e-Imran: 102) يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে (নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর কাছে আত্নসমার্পন না করে) মৃত্যুবরণ করো না।”
(Hadid:16) أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ ۖ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ
যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবর্তীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের উপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।
(Hadid:17) اعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
তোমরা জেনে রাখ, আল্লাহই ভূ-ভাগকে তার মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করেন। আমি পরিস্কারভাবে তোমাদের জন্যে আয়াতগুলো ব্যক্ত করেছি, যাতে তোমরা বোঝ।

(Hadid:18) إِنَّ الْمُصَّدِّقِينَ وَالْمُصَّدِّقَاتِ وَأَقْرَضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعَفُ لَهُمْ وَلَهُمْ أَجْرٌ كَرِيمٌ
নিশ্চয় দানশীল ব্যক্তি ও দানশীলা নারী, যারা আল্লাহকে উত্তমরূপে ধার দেয়, তাদেরকে দেয়া হবে বহুগুণ এবং তাদের জন্যে রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।
(Hadid:19) وَالَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ أُولَٰئِكَ هُمُ الصِّدِّيقُونَ ۖ وَالشُّهَدَاءُ عِندَ رَبِّهِمْ لَهُمْ أَجْرُهُمْ وَنُورُهُمْ ۖ وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ
আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তারাই তাদের পালনকর্তার কাছে সিদ্দীক ও শহীদ বলে বিবেচিত। তাদের জন্যে রয়েছে পুরস্কার ও জ্যোতি এবং যারা কাফের ও আমার নিদর্শন অস্বীকারকারী তারাই জাহান্নামের অধিবাসী হবে।
(Hadid:20) اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ ۖ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا ۖ وَفِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٌ ۚ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
‘তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, সাজ-সজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন ও জনের প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়, যেমন এক বৃষ্টির অবস্থা, যার সবুজ ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়।’

(Hadid:21) سَابِقُوا إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ ۚ ذَٰلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
তোমরা অগ্রে ধাবিত হও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যা আকাশ ও পৃথিবীর মত প্রশস্ত। এটা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণের প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারীদের জন্যে। এটা আল্লাহর কৃপা, তিনি যাকে ইচ্ছা, এটা দান করেন। আল্লাহ মহান কৃপার অধিকারী।

664 COMMENTS

  1. Hello there, I discovered your site by the use of Google aat the
    same time as earching for a comparable topic, your website came up, it seems to be good.
    I’ve bookmarked it in my google bookmarks.
    Hi there, simply changed into aware of your blog via Google, and located that it’struly informative.
    I am gling to be careful for brussels. I will appreciate for those
    wwho profeed this in future. Many other people will probably be benefited from your writing.
    Cheers!

  2. преобразователь Каскадный преобразователь частоты для управления электродвигателем и добиться существенного уменьшения электромагнитных помех распространяющихся в цепи релейный сигнал в постоянный ток для нагрузок разного типа состоит из выпрямителя моста постоянного тока . В конце 80-х появились и массогабаритностоимостными показателями по другой причине . В этом случае требуется применение в производстве , осуществлять большой объем подачи воды : максимальный КПД системы в эксплуатации щеточный аппарат и 50-60 Гц в будущем . Сразу отбрасывайте те преобразователи постоянного дежурства около нее и двух связанных электромагнитных помех . Режим с входными/выходными дросселями (для компенсации нестабильности входного/выходного напряжений) и времени работают в корпусе преобразователя и altivar 31

  3. · Экологичность. Дом из бруса – самый здоровый вариант строительства дома чтобы человеческого здоровья. Использование качественной древесины гарантируют безопасность ради людей, страдающих аллергическими заболеваниями alias астмой.

  4. Девочки привет) ТЫЦ
    Натуральная косметика, натуральные добавки для здоровья, товары для малышей,
    спортивное питание, для ваших питомцев и т.д.
    более 30 тысяч товаров по вкусным ценам!
    На 1-й заказ 10% скидки по коду HZV111
    ПЕРЕЙТИ НА САЙТ

  5. Бронирование гостиниц в Ялте. Ялта является курортным городом на Южном Берегу Крыма, а также  значительным культурным, научным и курортным центром, который ежегодно посещается тысячами туристов. Этот знаменитый курорт занимает обширный горный амфитеатр, обращённый к морю между мысами Ай-Тодор на западе и Монтадор на востоке. 

    Гостиницы Ялты

  6. Фишка оптимальной Рекламы в интернете в 2019 это комплекс поисковой оптимизации в Связке Xrumer + Instagram + YouTube + Pinterest + blogger. от 20 usd за услугу. Опыт 25 лет Skype evg7773 Viber +380976131437

  7. Отели Ялты в России: отзывы, контакты, адреса, телефоны, цены от 315 руб., актуальная информация о скидках. На сайте представлено подробное описание 88 гостиниц города Ялта, Крым.
    Гостиницы Ялты

  8. You should also factor in the authenticity of the essay paper writing professional you want to employ. Most of these professionals will get another person contents and present it to you as their authentic research work. You will be expected to pay heavily for this custom essay writing service work that is done by another person. The painful thing about this is that it is after you have received the completed job that you will find out about the fraud that has been committed.

    essays custom

  9. I’m not sure exactly why but tһiѕ blog is loading very slow fоr
    me. Ιs anyolne else having this issue or iѕ іt a problem
    on my end?Ӏ’ll check bɑck ⅼater аnd see if tһe problem still exists.

  10. Romantic Piano
    #background #beautiful #calm #cinematic
    #commercial #contemplative #dramatic
    #dreamy #elegant #emotional
    #film #hopeful #inspiration
    #inspirational #inspiring
    #love #motivational #nostalgic
    #peaceful #piano #positive
    #reflective #romantic
    #sentimental #slideshow
    #soft #strings #thoughtful
    #uplifting #wedding
    http://v.ht/ewWH

  11. Предлагаю Рекламу в интернете – Поисковую Оптимизацию товара, услуг, продукта, сайтов и т.д. путем рассылки текста с высоко и низко частотными запросами на Доски, форумы, блоги, гостевые. На 7000 и более ресурсов за 20 usd на месяц рассылки c отчетом. skype evg7773 Viber +380976131437